স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান সমূহ

Displaying 1-1 of 1 result.

মাদারীপুর-এর ইতিহাস ও ঐতিহ্য

হযরত শাহ মাদারের দরগাহঃ

আড়িয়াল খাঁ নদীর তীর ঘেঁষে মাদারীপুর শহরের একপ্রান্তে  হযরত শাহ মাদারের দরগাহ অবস্থিত। কে এই দরগাহ নির্মাণ করেছে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। দরগাহের সাথে বর্তমানে একটি মসজিদ ও একটি মাদ্রাসা রয়েছে।

 

 রাজা রাম মন্দিরঃ


রাজারাম মন্দির মাদারীপুর জেলার প্রাচীনতম মন্দির। এ মন্দিরটি জেলার রাজৈর উপজেলার খালিয়া গ্রামে অবস্থিত। খালিয়ার বিশিষ্ট হিন্দু জমিদার রাজারাম রায় সপ্তদশ শতাব্দিতে এটি নির্মাণ করেন। এ মন্দিরের সম্মুখভাগ টেরা কোটা কারুকার্য মন্ডিত এবং রামায়ণ-মহাভারতের দৃশ্যাবলী খচিত।

 

 ঝাউদি গিরিঃ

মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদিতে অবস্থিত এ গিরিকে এ জেলার সবচেয়ে প্রাচীন প্রত্নসম্পদ বলে ধারণা করা হয় । ব্রিটিশ যুগের বহু পূর্বে এটি নির্মিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে মঘ বংশের লোকেরা ইহা নির্মাণ করে। বিশ ইঞ্চি ইট-সুড়কি গাথুনির ওপর একশত ফুটের অধিক উঁচু এ গিরিটির উল্লেখ আর এস ও সি.এস ম্যাপে এর অবস্থান থাকায় জরীপ কাজে এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রাচীন মঘ বংশীয় লোকেরা কি কারণে এটি নির্মাণ করেন তা জানা যায়নি।

 

 আউলিয়াপুর নীলকুঠিঃ

আউলিয়াপুর নীলকুঠি এ জেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান। মাদারীপুর সদর উপজেলার ছিলারচর ইউনিয়নের আওলিয়াপুর গ্রামে এ নীলকুঠি অবস্থিত। অত্যাচারী ইংরেজ নীলকর ডানলপ ছিলেন এ কুঠির অধিকর্তা। এ কুঠির অদূরে ফরায়েজী আন্দোলনে নেতা হাজী শরীয়ত উল্লাহর অনুসারীদের সাথে নীলকর ডানলপ বাহিনীর যুদ্ধ বাধে। সে যুদ্ধে ডানলপের বাহিনী চরম পরাজয় বরণ করে। ঐ স্থানটি রণখোলা নামে পরিচিত।

 

মিঠাপুর জমিদার বাড়িঃ

মাদারীপুর সদর উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মিঠাপুর জমিদার বাড়ি । মুসলমান জমিদার গোলাম মাওলা চৌধুরী ও গোলাম ছত্তার চৌধুরী এবং তাদের বংশধর আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর জি.ডাব্লু চৌধুরীর বাড়ী হচ্ছে এ জমিদার বাড়ী । হিন্দু জমিদার লক্ষ্মী নারায়ন সিকারের বাসস্থানও মিঠাপুরে। তাদের নির্মিত দালান-কোঠা এখানে এখনও বিদ্যমান। এগুলো এ জেলার অন্যতম প্রত্নসম্পদ।

 

 প্রণব মঠ, বাজিতপুরঃ

রাজৈর উপজেলার বাজিতপুরে ঢাকা- বরিশাল মহাসড়কের পাশে প্রণবমঠ অবস্থিত । প্রণবস্বামী প্রণবানন্দ মহারাজের নাম অনুসারে এ প্রণব মঠ। এখানে তাঁর প্রতিষ্ঠিত একটি আশ্রম আছে। স্বামী প্রণবানন্দ মহারাজ ছিলেন অগ্নিযুগের একজন বিশিষ্ট বিপ্লবী এবং বীর সাধক। মঠটি বেশ প্রাচীন।

 

 শকুনীলেকঃ

মাদারীপুর শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত শকুনীলেক এ জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় জলাধার। ১৯৪৩ সালে এ লেক খনন করা হয়। এ লেকের আয়তন প্রায় ২০ একর। লেকের উত্তর পাড় ঘিরে রয়েছে পুরাতন কালেক্টরেট ভবন, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, শহীদ স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার এবং দক্ষিণ পাড়ে সার্কিট হাউস ও মুক্তিযোদ্ধা মিলনায়তন। লেকের পূর্বপাড়ে রয়েছে জেলা কারাগার ও মাদারীপুর সদর হাসপাতাল এবং পশ্চিম পাড়ে ডিসি একাডেমী ও জেলা সদর জামে মসজিদ।

 

সেনাপতির দিঘিঃ

কালকিনি উপজেলার আমড়াতলা ও খাতিয়াল গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে এ দিঘি অবস্থিত। এ দিঘির আয়তন ২৫ একর। মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসন আমলে সুবাদার ইসলাম খাঁর নেতৃত্বে সৈন্যের বিশাল এক বাহিনী ঢাকা যাওয়ার সময় এখানে কিছুদিন অবস্থান করেন। তারা তাদের পানিয় জলের অভাব মেটানোর জন্য এ দিঘি খনন করে।

 

 চরমুগরিয়া ( প্রাচীন বন্দর বানরের রাজ্য)

এক সময় বিখ্যাত ব্যবসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল সদর উপজেলার চরমুগরিয়া । ব্যবসা-বাণিজ্য ছাড়াও খেলাধুলা, সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্র ছিল এ বন্দর। চরমুগরিয়ার সেই ঐতিহ্য এখন বিলুপ্তির পথে। অতীতের নীরব সাক্ষী দাঁড়িয়ে আছে এ বন্দর।

চরমুগুরিয়ার বিশেষত্ব হলো এখানকার বানর । মানুষের বসতির পুর্বেই এখানে তাদের বসবাস । পুরো চরমুগুরিয়া জুড়ে মানুষের সাথে এদের সমাজ, এদের বসবাস ।